বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২৮ অপরাহ্ন

দৃষ্টি দিন:
সম্মানিত পাঠক, আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছি। প্রতিমুহূর্তের সংবাদ জানতে ভিজিট করুন -www.coxsbazarvoice.com, আর নতুন নতুন ভিডিও পেতে সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল Cox's Bazar Voice. ফেসবুক পেজে লাইক দিয়ে শেয়ার করুন এবং কমেন্ট করুন। ধন্যবাদ।
শিরোনাম :
‘বিপুল’ অস্ত্রভান্ডারের দাবি ট্রাম্পের, তথ্য ফাঁসকারীদের হুঁশিয়ারি ‘আমি আমার শারীরিক গঠন পছন্দ করি’ বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত নির্যাতনের ঝুঁকি থাকলে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠাবে না মালয়েশিয়া গণতান্ত্রিক সংগ্রামের দলিল হবে জুলাই জাদুঘর: প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে আবারো এক শিশুর মৃত্যু মেরিন ড্রাইভে দুই দফায় পাহাড়ধস ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাতের অস্ত্রচুক্তির গোপন তথ্য ফাঁস ঐকমত্যের ভিত্তিতেই জনপ্রত্যাশার সংবিধান সংস্কার চান সালাহউদ্দিন আহমদ

বাংলাদেশকে পরনির্ভরশীল ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ভয়েস ডেস্ক:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম শিক্ষা হলো বাংলাদেশকে কখনোই পরনির্ভরশীল ‘ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র’ হিসেবে দেখতে চায় না সরকার।

ঢাকার ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে বুধবার জুলাই অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “দেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘বাংলাদেশ প্রথম’ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো বাংলাদেশকে আর কখনো সেই অবস্থায় ফিরে যেতে না দেওয়া”।

গণঅভ্যুত্থানের নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে যারা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের অসীম সাহস, নির্ভীক দৃষ্টিভঙ্গি ও দেশপ্রেম আমাদের জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আর যারা আহত হয়েছেন, তাদের ত্যাগ ও অদম্য মনোবল প্রজন্ম পর প্রজন্মকে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে”।

তিনি বলেন, “দুই বছর আগে দেশের পরিস্থিতি ছিল স্বাধীনতা-পরবর্তী বাংলাদেশের সবচেয়ে নৃশংস সময়গুলোর একটি”।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাইরে থেকে দেখেছি যে ছোট ছোট বাচ্চারা নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, প্রাণ দিচ্ছে, আহত হচ্ছে। তারপর একসময় পুরো ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট হয়ে গেল। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটা ছিল সবচেয়ে নৃশংস সময়, স্বাধীনতার পর এমন কালো অধ্যায় আমরা আর দেখিনি”।

তিনি বলেন, “আজকে প্রধানমন্ত্রী যে কথাটা বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের একটা বড় বিষয়ই হচ্ছে- আমরা বাংলাদেশকে একটা ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ হিসেবে দেখতে চাই না। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথাটাও সেই একই বার্তার প্রতিধ্বনি”।

ড. খলিলুর রাহমান আরও বলেন, “শুরু থেকেই আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় ভিত্তি হচ্ছে-বাংলাদেশ প্রথম। আমরা সেই ক্লায়েন্ট স্টেটের পর্যায়ে কখনো ফিরে যাব না, আর কখনো নয়। এই কাজটার একটা বড় দায়িত্ব আমাদের ওপর। কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সামনে থেকে নিশ্চিত করবে যে আমরা আর কখনো ক্লায়েন্ট স্টেট বা পরনির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত না হই”।

বিশ্ব পরিস্থিতিকে ‘জটিল’ আখ্যা দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা একটা জটিল আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থার মধ্যে আছি। বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, বিভিন্ন স্থানে একতরফা পদক্ষেপ বাড়ছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ভাঙনও স্পষ্ট হচ্ছে। এই জটিল আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাস্তবতার মধ্য দিয়েই আমাদের পথ চলতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) সভাপতির নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, নির্বাচন শেষে তিনি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানালে প্রধানমন্ত্রী তাকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামতে নির্দেশ দেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, “আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলাম, ‘আপনি আমাকে এক অসম্ভব কাজ (ইম্পসিবল মিশন) দিচ্ছেন’। উনি (প্রধানমন্ত্রী) বললেন, ইম্পসিবল মিশনের জন্যই তো ফরেন অফিস”।

ইউএনজিএ সভাপতির নির্বাচিত হওয়ার সাফল্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার প্রথম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তবে এটি খুবই কঠিন পরীক্ষা ছিল”।

তার মতে, ওই সাফল্য প্রমাণ করেছে যে জুলাইয়ের শহিদরা দেশের কূটনীতিকদের ওপর যে ঐতিহাসিক দায়িত্ব দিয়ে গেছেন, তা পালনের সক্ষমতা ও দৃঢ় ইচ্ছা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারে যোগদান প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের দিন তিনি প্রথমে হাসপাতালে গিয়ে জুলাইয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। “ফিরে এসে আমি অধ্যাপক ইউনূসকে বলেছিলাম, ‘স্যার, আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই যে আমরা কী অবস্থায় তাদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি।’ এই কথাটি যেন আমরা সবাই মনে রাখি”, বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের এই ছেলেমেয়েগুলো ভয়াবহ এক দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনে আমাদের হাতে দিয়েছে। এখন আমাদের দায়িত্ব ভালোবাসা, নিষ্ঠা, মেধা ও প্রজ্ঞা দিয়ে এই দেশকে আগলে রাখা এবং এগিয়ে নিয়ে যাওয়া”।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে ড. খলিলুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের যে দায়, সেই দায়িত্ব কেউ যেন ভুলে না যান। প্রতিটি মুহূর্তে মনে রাখবেন, শহিদরা আমাদের হাতে একটি ঐতিহাসিক দায়িত্বভার দিয়ে গেছেন”। /ইউএনবি

ভয়েস/জেইউ।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2023
Developed by : JM IT SOLUTION